ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের আগে বিজেপির ভেতরেই এখন সবচেয়ে বড় আলোচনা; কে হচ্ছেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার (০৮ মে) কলকাতায় দলীয় নবনির্বাচিত বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রাজনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, সেই বৈঠকেই চূড়ান্ত হতে পারে মুখ্যমন্ত্রীর নাম। আর শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথ নিতে পারে নতুন বিজেপি সরকার।
বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী কে হতে পারেন, এ প্রশ্নের উত্তরে সম্ভাব্য কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে ভারতীয় গণমাধ্যমে। তারা হলেন, বর্তমান বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, রাজ্য বিজেপির সাবেক সভাপতি দিলীপ ঘোষ, সুকান্ত মজুমদার, সাবেক সাংবাদিক ও রাজ্যসভার সাবেক সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত প্রমুখ।
বিজেপির বিভিন্ন সূত্র বলছে, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নামই সামনে আসতে পারে। দলের একটি বড় অংশ মনে করছে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তিনিই সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার।
শুভেন্দুর পক্ষে সবচেয়ে বড় যুক্তি হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে; টানা দুই নির্বাচনে তিনি সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেছেন।
২০২১ সালে নন্দীগ্রামে প্রথমবারের মতো মমতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামেন শুভেন্দু। সেই নির্বাচনে প্রায় দুই হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় পান তিনি। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুরে গিয়ে আবারও মমতাকে চ্যালেঞ্জ করেন শুভেন্দু। এবার ব্যবধান আরও বেড়েছে। প্রায় ১৫ হাজার ভোটে পরাজিত হয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে মুখ্যমন্ত্রী ও বিরোধী দলনেতার এমন সরাসরি লড়াই খুব একটা দেখা যায়নি। তার ওপর টানা দুইবার মুখ্যমন্ত্রীকে ভোটে হারানোর নজিরও বিরল। ফলে বিজেপির ভেতরে অনেকেই মনে করছেন, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে শুভেন্দুই স্বাভাবিক পছন্দ।
এবারের নির্বাচনে শুভেন্দুকে দুই কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করেছিল বিজেপি। নন্দীগ্রামেও তিনি জয় পেয়েছেন প্রায় ১০ হাজার ভোটে।
দলীয় সূত্র বলছে, শুক্রবার কলকাতায় পৌঁছান অমিত শাহ। নিউ টাউনের একটি হোটেলে অবস্থান করছেন তিনি। আজ বিকেলে বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে বিজেপির জয়ী ২০৭ জন বিধায়কের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন।
সেখানে হাজির থাকবেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল এবং রাজ্য বিজেপির সাধারণ সাংগঠনিক সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তী ও শুভেন্দু অধিকারী।
বৈঠকেই বিধানসভায় বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচন করা হবে। বিজেপির সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী, যে নেতা পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচিত হন, তিনিই মুখ্যমন্ত্রী হন। ফলে ওই বৈঠক কার্যত পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী নির্ধারণের বৈঠক হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
এই প্রক্রিয়ায় অমিত শাহর সহকারী পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি।
সূত্রের খবর, বৈঠকে যার নাম চূড়ান্ত হবে, তাকেই সন্ধ্যায় নবনির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে রাজভবনে যেতে বলা হবে। সেখানে গভর্নরের কাছে সরকার গঠনের দাবি জানাবে বিজেপি।
সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে শনিবার সকালে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথ নেবে পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার।
সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে
