-
নারী সংরক্ষিত আসনে (পাবনা-সিরাজগঞ্জ) বিএনপির মনোনয়ন চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মোছাম্মৎ ললিতা গুলশান মিতা। শনিবার ৭ মার্চ ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
মিতা বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সহ-দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এসময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা মাহবুবুর রহমান পলাশ, পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আজমল হোসেন ডাবলু,পৌর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ললিতা গুলশান মিতার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু ছাত্ররাজনীতি দিয়ে। ১৯৯৫ সালে ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তার সক্রিয় রাজনৈতিক পথচলা শুরু।
পরবর্তীতে ২০০৭ সালে উপজেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে তিনি মূলধারার রাজনীতিতে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠেন। সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারে ভূমিকা রাখেন বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়।
বর্তমানে তিনি জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সহ-দপ্তর সম্পাদক ছাড়াও পাবনা জেলা মহিলা দলের সিনিয়র সদস্য এবং ঈশ্বরদী উপজেলা মহিলা দলের সদস্য হিসেবে যুক্ত আছেন।
দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি, গত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সক্রিয় ছিলেন এবং একাধিক মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। ২০০৭ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক আন্দোলন পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচিতে তার অংশগ্রহণ ছিল বলে সহকর্মীরা উল্লেখ করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরেও তিনি সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেন। ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রচার উপকমিটির টিম লিডার হিসেবে কাজ করেন বলে দলীয় সূত্র জানায়। এছাড়া ঢাকা-১৩ আসনে প্রার্থী ববি হাজ্জাজের নির্বাচনী প্রচারণায়ও সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন।
পারিবারিকভাবেও তিনি একটি রাজনৈতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠেন বলে জানা যায়। তার শ্বশুর বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সুবহান শিকদার সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন। তার স্বামী আলমগীর কবির রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক নেতা এবং বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
রাজনীতির পাশাপাশি ললিতা গুলশান মিতা নিজেকে মানবাধিকার ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও যুক্ত রেখেছেন বলে ঘনিষ্ঠজনরা জানান। তিনি ঈশ্বরদী বাঁশের বাঁধ ডিগ্রি অনার্স কলেজের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন এবং নারী উদ্যোক্তা হিসেবে স্বর্ণপদকসহ একাধিক সম্মাননা পেয়েছেন। বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় এক হাজার নারীর কর্মসংস্থানে ভূমিকা রাখার কথাও তার অনুসারীরা উল্লেখ করেন।
