পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার প্রত্যন্ত পদ্মা তীরের জনপদ চরকুড়ুলিয়া। নাগরিক সুবিধাহীন গ্রামটিতে নেই কোনো সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। নেই কোনো স্থায়ী শহীদ মিনার। কিন্তু ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পথে এই সীমাবদ্ধতা বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি বেসরকারি শিশু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সেলিম রেজা আদর্শ বিদ্যানিকেতনের শিক্ষার্থীদের। নিজেদের মেধা আর শ্রমে বাঁশ, কাঠ আর কাগজ দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরি করে তাতেই ফুলেল শ্রদ্ধাঞ্জলি দিয়ে ভাষা শহীদদের স্মরণ করেছে তারা।
গত দুদিন ধরে শিক্ষার্থীরা মিলে সংগ্রহ করে বাঁশ, কাঠ ও রঙিন কাগজ। নিপুণ হাতে তৈরি করে একটি শহীদ মিনার। পরে একুশে ফেব্রুয়ারির সকাল থেকেই বিভিন্ন গ্রাম থেকে ফুল হাতে বিদ্যালয়ে জড়ো হতে থাকে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী। সকাল ৮টায় শুরু হয় প্রভাতফেরি। পরে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি…’ গানে কণ্ঠ মিলিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অস্থায়ী সেই বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
শ্রদ্ধা জানানো শেষে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী উল্লাস উদ্দিন ও চতুর্থ শ্রেণির ফারজানা রহমান উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলল, তাদের স্কুলে শহীদ মিনার নেই বলে তারা আগে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে পারত না। তাই এবার স্যারদের অনুমতি নিয়ে তারা নিজেরাই বাঁশ-কাগজ দিয়ে শহীদ মিনার বানিয়েছে। নিজেদের তৈরি করা সেই বেদিতে ফুল দিতে পেরে তারা অনেক আনন্দিত।
অভিভাবকরাও শিশুদের এমন সৃজনশীল ও দেশপ্রেমমূলক কাজে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক সেলিম রেজা বলেন, স্থায়ী শহীদ মিনার না থাকায় ইচ্ছা থাকলেও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করতে পারত না শিক্ষার্থীরা। তাই এবার তারা নিজেরাই উদ্যোগী হয়।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের সীমিত সম্পদের মধ্যেও শিশুদের এই দেশপ্রেম আমাকে মুগ্ধ করেছে। তারা নিজ উদ্যোগে এই মিনার তৈরি করে প্রমাণ করেছে যে, শ্রদ্ধা জানানোর জন্য ইচ্ছাশক্তিই যথেষ্ট।”
